Chapter Text
গুড়িগুড়ি বৃষ্টি হচ্ছে বাইরে। জানালা দিয়ে বাইরে তাকাতে গেলেই নিজের বাড়ন্ত হাত-পা ছড়িয়ে দিয়ে দৃষ্টিসীমার সবটুকু দখল করে নেওয়ার আন্তরিক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে আমার দুইবছর বয়সী অর্কিড আলেয়া সুন্দরী।
বহুকষ্টে তার উঠতি পাতার বাহার, আর গ্রিলের ঘেরাটোপ পার করে বাইরে দুচোখ মেলতে সক্ষম হলে চোখে পড়ছে পাশের বাড়ির টিনের চাল। সত্য বলতে, জানালার সামনে চালটা আছে বলেই বৃষ্টির দিন বলে কিছু টের পাওয়া যায়। ইটপাথরের ওপর বৃষ্টি পড়লে তো আর রিমঝিম আওয়াজ হয়না।
আরো কিছুদূর চোখ গেলে দেখা যায় একটি চারতলা বিল্ডিং, তার তিনতলা আবার বানানো হয়নি। ফ্লোর খালি থাকার সুবাদে মনে হচ্ছে পাড়ার সব কুকুর-বিড়াল এইখানে এসে আশ্রয় নিয়েছে। ভালোই লাগে দেখতে। দুইটা বিড়ালছানা দেখছি তাদের মায়ের পায়ে পায়ে হাঁটছে।
ছোটবেলায় টম অ্যান্ড জেরি দেখে আমি মনে করতাম কুকুর-বিড়াল হয়তো সারাক্ষণ ঝগড়াই করে।
বৃষ্টির টুপটাপ আওয়াজ হচ্ছে। ছাইওয়ালী এই বৃষ্টির মাঝেও মাল হেঁকে যাচ্ছে, হয়তো বাড়িতে অভুক্ত সন্তান। অযথাই মনেমনে অচেনা মানুষের করুণ প্রেক্ষাপট কল্পনা করে বিষন্ন হয়ে বসে থাকি আমি, এ কেমন দুঃখবিলাস আমার জানা নেই। হয়তো ছাইওয়ালীর সন্তানই নেই, কিন্তু তাও নিজের পেটের তাগিদে বৃষ্টির মধ্যেই ছাইয়ের পোটলা নিয়ে বেরিয়ে পড়েছে।
মোরগ ডাকছে দূরে একটা। মোরগটাকে একটা ঘড়ি কিনে দিলে ভালো হত। মোরগদের ভোরে ডাকতে হয়, ও জানেনা?
পূর্বের বাতাস আসছে হালকা, সাথে নাচাচ্ছে আমার উইন্ডচাইমটাকে। সুন্দর শব্দের সন্নিবেশ। বাইরে বৃষ্টির রিমঝিম, আর ঘরে চাইমের টুংটাং। এই বেলায় একটা দুধচা হলে মজা হত। যাই বানিয়ে নিয়ে আসি।
